নিজস্ব সংবাদদাতা: তার নামের সঙ্গে ভাগাড়ের বড় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তার প্রিয় খাদ্য মরদেহের মাংস। তার নাম শকুন। দেখা যাচ্ছে, শকুনের সংখ্যা হু-হু করে কমছে। কেন? লোকালয়ে শকুন আর বাসা বাঁধতে পারছে না। বলে রাখা ভালো, শকুনের নজর যতই ভাগাড়ের দিকে থাক-না কেন, সে যতই মরাখেকো হোক-না কেন, সমাজে তার প্রয়োজন কিন্তু কম নয়। আসলে বাস্তুতন্ত্রে এমন অনেক পশুপাখি সাপখোপ থাকে, যাদের অস্তিত্ব খুবই প্রয়োজনীয়। শকুনের কথাই ধরা যাক না। একটা সময় ছিল, ধেড়ে ইঁদুর থেকে শুরু করে মৃত কুকুর, সব খেয়ে ফেলে চারপাশের পরিবেশকে দূষণমুক্ত করত শকুন। নইলে, মরা পশুর দেহ পচে-পচে গন্ধ ছড়াবে, তার দেহজুড়ে পোকামাকড় কামড়া-কামড়ি করবে, কোথাও-বা খানিক মাংস খুবলে এনে অন্যত্র ছড়াবে। তাই শকুনেরও প্রয়োজন কিছু কম নয়। ঠিক যে কারণে কাককে ঝাড়ুদার পাখি বলা হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন কমছে শকুনের সংখ্যা। পরিবেশবিদরা এর কারণ খতিয়ে দেখেছে। যে সব পশুকে পোষা হয়, বেচাকেনা হয়, তাদের শরীর খারাপ হলে ব্যথা কমানোর একটি ওষুধ দেওয়া গয়— ডাইক্লোফেনাক। দেখা যাচ্ছে, মৃত পশুদের একটা বড় অংশের শরীরেই ডাইক্লোফেনাকের অবশিষ্টাংশ রয়ে যাচ্ছে। আর সেই পশুকে খেয়ে শকুনের কিডনি বিকল হচ্ছে। শেষ অবধি সে আর বেঁচে থাকতে পারছে না। এছাড়া আরও একটা কারণ রয়েছে। গাছপালা সব কেটে দিয়ে যেভাবে নির্মাণ কাজ চলছে, বড়-বড় বহুতল তৈরি হচ্ছে, তাতে করে শকুন তার বাসা হারাচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে, তাদের প্রজনন হচ্ছে না ঠিক মতো। তাই, সংখ্যায় তারা কমতে থাকছে। শকুনের চোখ নেই ভাগাড়ের দিকে। ভাগাড়েরও দায় নেই নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা। সবমিলিয়ে, বাস্ততন্ত্র থেকে যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে শকুন, তাতে করে ক্ষতি হচ্ছে আমাদের।
তবে কেউ কেউ বলছেন, ভাগাড় এখন আগের চেয়ে অনেক অনেক পরিচ্ছন্ন থাকে। শহরাঞ্চলে, পৌরসভা এলাকায় এখন বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন খুব ঠিকঠাকভাবে হচ্ছে। কঠিন বর্জ্য ও তরল বর্জ্য, সবকিছুর জন্য আলাদা-আলাদা প্রযুক্তি রয়েছে। তাই, মৃত পশুর দেহ এদিকে-সেদিক ছড়িয়ে থাকছে না আর। তাছাড়া, যেখানে মাটি রয়েছে, সেখানে মৃত পশুকে মাটি-চাপা দেওয়া হচ্ছে। তাই, শকুন গন্ধ পেলেও তার নাগাল পাচ্ছে না। তবে সামগ্রিকভাবে পরিবেশের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় কোনও পশুপাখি বিলুপ্ত হলেই পরিবেশবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। তাই, শকুন অবলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আগেই সরকারের পরিবেশ দফতরক গা-ঝাড়া দিয়ে উঠতে হবে। যতই বদনাম থাকুক-না কেন, শকুন কিন্তু নিঃশব্দে কাজ করে চলা এক পরিবেশ কর্মী, যা পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।