নিজস্ব সংবাদাতা: বছরসাতেক আগে সুইডেনের পরিবেশ কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ গোটা দুনিয়ার নজর কেড়ে নেন। বিশ্ব উষ্ণায়নের বিপদ, পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ুর পরিবর্তন নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা যায় গ্রেটাকে। তখন কতই-বা বয়য় তার? পরিবেশ কর্মী এই তরুণী এখন গোটা বিশ্বে পরিবেশ কর্মীদের মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন। এর আগে, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে এত কমবয়সী কোনও মুখ এমন সোচ্চার হয়ে উঠেছেন, এমনটা কিন্তু আগে দেখা যায়নি। শুধু গ্রেটা থুনবার্গ নন। সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভিরনমেন্ট একটি সমীক্ষা করে জানিয়েছে, তরুণ প্রজন্মের ৯৪ শতাংশ পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে যথেষ্ট সচেতন। এদের মধ্যে অনেককেই পরিবেশ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়। যা সুড়ঙ্গ শেষে রুপোলি আলোটুকু অন্তত দেখায়।

দেশজুড়ে, বলা ভালো, বিশ্বজুড়ে পরিবেশ বিপর্যয় কী বিপদ ডেকে এনেছে, তা বলে শেষ করা যাবে না। এ-দেশে উত্তরাখণ্ডের যোশী মঠ সংলগ্ন এলাকায় বছরকয়েক আগে বিপর্যয় রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে। তারও কয়েকবছর আগে, কেদার-বদ্রী যাওয়ার পথ, হোটেল, শপিং মল, সবকিছুসুদ্ধ ভেসে যায়। বহু মানুষ নিখোঁজ হয়ে যান। উদ্ধারকাজে নামতে হয় সেনাবাহিনীকে। দেখা যাচ্ছে, তারপরেও কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণ কাজে লাগাম পরানো যায়নি। হৃষিকেশে সম্প্রতি গাছ কেটে রাস্তা চওড়া করার বিরুদ্ধে স্থানীয়রা আন্দোলনে নেমেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, যেখানে যানজট হয় না, রাস্তায় গাড়িই চলে না খুব-একটা, সেখানে গাছ কেটে রাস্তা চওড়া করা কি খুব প্রয়োজনীয়? হৃষিকেশের এই আন্দোলনকারীদের মধ্যে একটা বড় অংশই কিন্তু তরুণ প্রজন্মের। শুধু হৃষিকেশ নয়, অন্যত্রও তরুণ প্রজন্ম পরিবেশ রক্ষার কাজে এগিয়ে এসেছে। বেনারসের ঘাট থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করতে দেখা যাচ্ছে তরুণ-তরুণীদের। সব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্ম বুঝতে উপলব্ধি করেছে, পরিবেশ বিপর্যয় এখনই বন্ধ না-করলে বিপর্যয় আটকানো যাবে না।

সম্প্রতি পরিবেশবিদরা সতর্ক করছেন, কলকাতায় গঙ্গার জলস্তর বেড়ে গিয়ে তা বাগবাজার অঞ্চলকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এমনকি, সেই জল আরও দূরে, বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে ভাসিয়ে দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনই কিন্তু এই বিপর্য়ের নেপথ্যে রয়েছে। আশঙ্কা রয়েছে ভূমিকম্প নিয়ে। বলা হচ্ছে, কলকাতায় চারতলা অবধি বাড়ি ঠিক আছে, কিন্তু গগনচুম্বী ৩০-৪০-৫০ তলা বাড়ি তৈরি ঠিক নয়। মাটির উপর এই বিপুল চাপ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কলকাতায় ভূগর্ভের জলও ক্রমশ কমতে-কমতে তলানিতে ঠেকেছে। কারণ, যে-হারে নির্মাণ কাজ চলছে তাতে করে দেখা যাচ্ছে, যে-তল্লাটে আগে ১ লক্ষ মানুষ থাকত তিনদশক আগে, সেখানে এখন ১০ লক্ষ মানুষের বাস। স্বাভাবিকভাবেই ভূগর্ভের জলে টান পড়েছে। আশার কথা, এগিয়ে আসছে তরুণ প্রজন্ম।

Translate »